সুদের হার কমাল বাংলাদেশ ব্যাংক

করোনা ভাইরাসের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিতে কোনো ব্যাংক যেন তারল্য সংকটে না পড়ে সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ব্যাংকগুলোর স্বল্পমেয়াদি ঋণের সুদহার কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোর নগদ জমা সংরক্ষণের (সিআরআর) হারও কমানো হয়েছে।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে আলাদা দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে জানানো হয়, ব্যাংকগুলোর ধার নেওয়া রেপোর সুদহার দশমিক ২৫ শতাংশ কমিয়ে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশে নামানো হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে। অপর সার্কুলারে ব্যাংকগুলোর নগদ জমা দশমিক ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ব্যাংকগুলোকে বর্তমানে দ্বিসাপ্তাহিক ভিত্তিতে মোট তলবি ও মেয়াদি দায়ের ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে নূ্যনতম ৫ শতাংশ হারে বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমা হিসেবে রাখতে হয়। আগামী ১ এপ্রিল থেকে দ্বিসাপ্তাহিক ভিত্তিতে গড়ে ৫ শতাংশ এবং দৈনিক ভিত্তিতে নূ্যনতম সাড়ে ৪ শতাংশ রাখতে হবে। এর আগে সর্বশেষ ২০১৮ সালের এপ্রিলে সিআরআর কমানো হয়েছিল। ওই বছরের ১৫ এপ্রিল থেকে ব্যাংকগুলোর সিআরআর ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তবে বিধিবদ্ধ তারল্য সংরক্ষণের হার ১৩ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে।

জানা গেছে, রিভার্স রেপোর সুদহার বিদ্যমান ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ অপরিবর্তিত থাকবে। রেপোর বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকগুলোকে স্বল্প সময়ের জন্য ধার দেয়। আর রিভার্স রেপোর বিপরীতে ব্যাংকগুলো থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়।

এর আগে রোববার এক সার্কুলারের মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর বন্ড কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বিক্রির সুযোগ দেওয়া হয়। এর বিপরীতে নির্ধারিত মেয়াদ পর্যন্ত সুদ পাবে ব্যাংক। কোনো ব্যাংক নগদ টাকার সংকটে থাকলে তাদের সুবিধার কথা চিন্তা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ওই সার্কুলারে বলা হয়, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে সরকারি সিকিউরিটিজের বিপরীতে রেপো সুবিধা দিয়ে থাকে। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তারল্য ব্যবস্থাপনায় যাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে সরকারি সিকিউরিটিজ ক্রয় জোরদারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ‘সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ (এসএলআর)’ সংরক্ষণের পর অতিরিক্ত সরকারি সিকিউরিটিজ থাকলে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বাজার মূল্যে বিক্রি করতে পারবে।

এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানুয়ারি-জুন সময়ে কোনো গ্রাহক ঋণের কিস্তি না দিলেও তাকে খেলাপি না করার নির্দেশনা দিয়েছে। এ ছাড়া ক্যাশের চেয়ে ডিজিটাল ভিত্তিক লেনদেন জোরদার করতে বলা হয়েছে। এ লক্ষ্যে কার্ড লেনদেনের কিছু চার্জ এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দৈনিক এক হাজার টাকা পর্যন্ত চার্জ মুক্ত রাখতে বলা হয়েছে। সব ধরনের লেনদেনে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *