রামগড়ে মসজিদ নিয়ে দু’গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ৪, এলাকায় উত্তেজনা

খাগড়াছড়ি চট্টগ্রাম প্রতিনিধীঃ

রামগড় পৌরসভার ইসলামপুর(বল্টুরামটিলা) এলাকায় স্থানীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দু’ পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন। এদের গুরুতর আহত একজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । এনিয়ে এলাকায় বিবদমান গ্রুপ দুটির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ঘটনায সাধারণ মানুষের মনে আতংক দেখা দিয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানায়, পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের ইসলামপুর(বল্টুরামটিলা) জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি নিয়ে স্থানীয় পৌর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সভাপতি মোঃ দেলোয়ার হোসেনের সাথে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল হকের বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছে। কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন ঐ মসজিদ পরিচালনা কমিটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক।

তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে নতুন কমিটি গঠনের জন্য আব্দুল হকের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ দাবি তোলে। এনিয়ে দুপক্ষের মধ্যে গত দুসপ্তাহে একাধিকবার বাকবিতন্ডা ও মারমুখী পরিস্থিতির সৃস্টি হয়।এমন উত্তেজনাকর অবস্থায় শনিবার (১৩ জুন) বিবদমান গ্রুপ দুটি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুপক্ষ একে অপরের ওপর হামলা চালায। এতে কমপক্ষে চারজন আহত হয। এদের মধ্যে তথ্য প্রযুক্তিলীগে নেতা সাগর (২০) ও কৃষক লীগের সদস্য হাসান(২৫)কে আহত অবস্থায় রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর গুরুতর আহত সাগরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অপর দুই আহত আওয়ামী লীগের সদস্য মুসলিম (৫৫) ও আনোয়ার নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন আছেন। দুপক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। বল্টুরামটিলার দোকানপাট বন্ধ করে সাধারণ মানুষ ছুটোছুটি করে নিরাপদ স্থানে চলে যায়। পরে খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে দুপক্ষই সরে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংঘর্ষে জড়িতদের একটি ভিডিও ফুটেজে সংঘর্ষে অংশ নেয়া কতিপয় যুবকের হাতে কিরিচ, লম্বা ধারালো দা, ছুরি ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্র দেখা গেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, আব্দুল হক মূলতঃ মসজিদ কমিটিকে ইস্যূ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে অবাধে ও নির্বিঘ্নে মাদক ও চোরাচালান ব্যবসা চালানোর ফন্দি করেছে।

তিনি আরও বলেন, শনিবার আব্দুল হকের লোকজন আনোয়ার নামে এক আওয়ামীলীগকর্মীকে মারধর করলে সংর্ঘষের সূত্রপাত হয়। কাউন্সিলর দেলোয়ার আরও বলেন, আব্দুল হক বহিরাগত যুবকদের এনে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে। তিনি জানান, তার এসব কর্মকান্ডের ব্যাপারে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দকে জানানো হলেও সাংগঠনিকভাবে তারা এ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেননি।

অপরদিকে, ১নং পৌর ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হক অভিযোগ করে বলেন, কাউন্সিলর দেলোয়ার মসজিদ তহবিলের অনেক টাকা পয়সা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া অসংখ্য অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এসব কারণে এলাকার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ তাকে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অপসারণ চায়। আব্দুল হক আরও অভিযোগ করেন, কাউন্সিলরের প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় মাদক ও চোরাচালান ব্যবসা পরিচালনা করেন।

সম্প্রতি বিজিবি তার বাসা তল্লাশি করে ভারতীয় মদ, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করে। বিপুল সংখ্যক ইয়াবা ট্যাবলেটসহ বিজিবির হাতে তার আপন ভাই আটক হয়। এছাড়া সীমান্তের কাছের তার এক গোপন গোডাউন থেকে বিজিবি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়িসহ বিভিন্ন অবৈধ মালামাল উদ্ধার করে। আব্দুল হক জানান, আগামী পৌর নির্বাচনে তিনি কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হবেন এটা প্রকাশ পাওয়ার পর দেলোয়ার তার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি ও বহিরাগত ক্যাডার এনে তিনি এলাকায় আতংক ছড়াচ্ছেন। তার বিপক্ষের লোকজনের বাড়িঘরে হামলাসহ হুমকি ধমকি দিচ্ছে অনবরত। এতে অনেকে বাড়ি ঘরও ছেড়েছে। শনিবারের সংঘর্ষে নিজের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আব্দুল হক বলেন, দেলোয়ার নিজে নেতৃত্ব দিয়ে সাগর, হাসান, মুসলিমসহ কয়েকজনের ওপর ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা দিয়ে হামলা চালিয়ে আহত করে।

এদিকে, রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শামসুজ্জামান বলেন, মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দুপক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখনও ওখানে পুলিশের টহল রয়েছে। তিনি বলেন, সংঘর্ষ বা আহত হওয়ার ঘটনায় কোন পক্ষ থানায় মামলা দেয়নি।

ওসি জানান, উপজেলা ও পৌর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ সোমবার (১৫ জুন) দেলোয়ার ও আব্দুল হক এ দুই গ্রুপকে নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় বসবেন বলে দলের নেতৃবৃন্দ তাঁকে জানিয়েছেন। রামগড় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী নুরুল আলম বলেন, মসজিদ কমিটির সাধারণ ইস্যূ নিয়ে এ করোনা পরিস্থিতিতে তারা নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ, মারামারিতে লিপ্ত হবে এটা সমর্থনযোগ্য নয়। এতে দলীয় ভাবমূর্তিও নস্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় সোমবার(১৫ জুন) দুই পক্ষ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বিরোধ মীমাংসায় বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *