রাউজানের এমপির এপিএস পরিচয়ে চাঁদাবাজি – আটক ৩ প্রতারক চক্র

রাউজানের এমপির এপিএস পরিচয়ে চাঁদাবাজি - আটক ৩ প্রতারক চক্র

আবিদুল ইসলাম,রাউজান চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

রাউজানে পুলিশের বিশেষ অভিযাণে তিন প্রতারককে আটক করা হয়েছে। এরমধ্যে এক জন মহিলা।এই প্রতারক চক্রটি চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনের সাংসদ এবি এম ফজলে করিম চৌধুরীর এপিএস পরিচয় দিয়ে দেশের বিশিষ্ট জনদের ফোন করে প্রতারণার মাধ্যমে বিকাশে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। জানা যায়, এই চক্রটি সাংসদ মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সাংসদ নিজাম হাজারী, সাংসদ শিরিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে কাউন্সিলর লিটন, কাউন্সিল এরশাদ,লোহাগাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল হক বাবুল,চন্দনাইশের থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগসহ বিভিন্ন বিশিষ্টজন থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়।সাংসদ ফজলে করিম এছাড়াও তাঁরা আরো বিভিন্ন সাংসদের নাম ব্যবহার করে চাঁদা আদায় করতেন।২১জুন সন্ধ্যায় উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া এলাকা থেকে প্রতারক চক্রের একজন আটক করার পর দিবাগত ভোর রাতে চট্টগ্রাম শহরের ডাবলমুরিং থানা এলাকা থেকে অপর দুইজনকে আটক করে পুলিশ।এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা, ২শত পিস ইয়াবাসহ তিনটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা হলেন পটিয়া উপজেলার শোভনদন্ডী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের হাজী আহম্মদ সোফার বাড়ীর জাফর আহম্মদের পুত্র এহসানুল হক (২৬), চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের পশ্চিম এলাহাবাদ এলাকার মৃত আব্দুর রহমানের পুত্র নুরুল আলম প্রকাশ সুমন (৪০) ও তার স্ত্রী তারানা নাজ শবনব (৩৮)।রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কেপায়ত উল্লাহ্ পিপিএম সাংবাদিকদের জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রাম একটি প্রতারক চক্র দীর্ঘ দিন ধরে দেশের শীর্ষ স্থানীয় সাংসদ ও বিশিষ্টজনের নাম ব্যবহার করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল। সর্বশেষ রাউজানের সাংসদের এপিএস পরিচয়ে প্রতারণা করতে গিয়ে পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বারের সূত্রধরে প্রতারক চক্রের হোতাকে আটক করতে সক্ষম হই। তার দেয়া তথ্য মতে বিকাশ নাম্বার চক্রের দুই সদস্য স্বামী-স্ত্রীকে আটক করি নগরীর ডাবলমুরিং থানা এলাকা থেকে। তাদের সর্বশেষ বিকাশে টাকা আসে ৩০ হাজার। এই টাকা পাঠিয়েছিল বাকলীয়া থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি। এই টাকাও প্রতারণা করে বিকাশে আনার কথা স্বীকার করেছে চক্রটি। এই প্রতারক চক্রটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৭টি মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, মাদক ও ডিজিটাল আইনে রাউজান থানায় মামলা রুজু করে সোমবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *