মুজিববর্ষে লিভার কেয়ার এন্ড রিসার্চ সেন্টারে আউটডোর সেবা

লিভার সমস্যা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে অনেক বড় একটি চ্যালেঞ্জ। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে যত রোগী ভর্তি হয় তার মধ্যে ৮ থেকে ১২ শতাংশ লিভার রোগে আক্রান্ত। এসব রোগীদের সেবা দিতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে লিভার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে সংযোজন হলো আউটডোর সেবা।

বুধবার (১৮ মার্চ) থেকে রাজধানীর ধানমিন্ডর ১৪ নং রোডে অবস্থিত ফারাবী জেনারেল হাসপাতালে লিভার কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারে প্রতি শনি, সোম ও বুধবার লিভার বিশেষজ্ঞরা অন্তঃবিভাগের পাশাপাশি বহির্বিভাগে রোগীদের সাশ্রয়ী মূল্যে সেবা প্রদান করবেন।

মঙ্গলবার হাসপাতালটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘নিঃসন্দেহে এটি বাংলাদেশের লিভার রোগীদের সুলভ মূল্যে এবং সহজে বিশেষজ্ঞ সেবা ও সর্বাধুনিক চিকিৎসা পেতে সাহায্য করবে।’

সরকারী খাতের পাশাপাশি বেসরকারি প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে ২০১৬ সালে একদল উদ্যমী, উদীয়মান, দক্ষ হেপাটোলজিস্ট, সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং লিভারের রোগীদের সমন্বয়ে গঠিত হয় ফোরাম ফর দি স্টাডি অব দি লিভার ডিজিজ, বাংলাদেশ (এফ.এস.এল.বি)। এটি একটি জনহিতকর, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।

সংগঠনটির চেয়ারম্যান শহীদ জায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী এবং এর চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব (স্বপ্নীল)।

‘লিভার কেয়ার উই ডেলিভার’- এই লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত লিভার কেয়ার এন্ড রিসার্চ সেন্টার, ফোরাম ফর দি স্টাডি অব দি লিভার ডিজিজ, বাংলাদেশ এর প্রধান প্রকল্প। ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র ধানমণ্ডিতে ফারাবী জেনারেল হাসপাতালে অবস্থিত এই সেন্টারে লিভার রোগীদের যাবতীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এখানে অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে সকল পরীক্ষা নিরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এন্ডোস্কপি, কোলনোস্কপি প্রভৃতি করা হয়।

উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে লিভার রোগের আধুনিক চিকিৎসা সমূহ এখানেও শুরু করা হয়েছে। যা দেশের অন্য কোথাও নেই। যেমন- লিভার সিরোসিস এর চিকিৎসায় স্টেম সেল থেরাপি ও প্লাজমা এক্সচেঞ্জ, লিভার ক্যান্সার এর চিকিৎসায় আর.এফ.এ (রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি এবলেসন), টেইস (ট্রান্স আরটারিয়াল কেমো এমবোলাইজেশন) প্রভৃতি এই সেন্টারের নিয়মিত কার্যক্রম।

শুধু তাই নয়, লিভার রোগীদের কল্যাণে বিশেষজ্ঞগণের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে এখানে নিয়মিত বৈজ্ঞানিক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম, সচেতনতা প্রোগ্রাম প্রভৃতি আয়োজন করা হয়ে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *