মুজিববর্ষে দেশের সকল ঘরে আলো জ্বলবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ জ্বালিয়ে দিবো। এই মুজিববর্ষে বাংলাদেশের কোন ঘর অন্ধকারে থাকবে না। সকলের ঘরে আলো জ্বলবে।’

গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং- এর মাধ্যমে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহীতে নির্মিত ‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর এন্ড ট্রেনিং সেন্টার’সহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রযুক্তির এই যুগে বিশ্ব যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে তা আমরা চাই না। এখন গ্রামের ছেলেরাও আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে অর্থ উপর্জন করছে। আর সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। দেশের প্রায় সর্বত্র ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে গেছে। যে সব এলাকাতে বাকি আছে সেখানেও অল্প দিনের মধ্যে ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে ইন্টারনেট চলে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘এখন সকলের হাতে হাতে মোবাইল ফোন। প্রত্যেকেই দুটি তিনটি করে সিম ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের মানুষ কথা বলতে পছন্দ করে। খুব সহজে তারা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মনে কথা আদান প্রদান করতে পারছে। যা এক সময় কঠিন ছিল।’

দেশকে এগিয়ে নিতে প্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন জরুরী মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সরকার প্রযুক্তি নির্ভর। আমরা দেশের সকল সেক্টরকে ডিজিটাল ও প্রযুক্তির আওতায় আনছি।’

‘বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও পিছিয়ে থাকবে না’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বেশি জোর দিয়েছি। এ পর্যন্ত সারাদেশে আমরা ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলেছি। প্রযুক্তিতে সারা বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, সে কারণে আমরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘নতুন প্রজন্মকে আমরা এমনভাবে শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে চাই যেন বিশ্বের উন্নত দেশের শিক্ষার্থীদের চাইতে কোনো অংশে পিছিয়ে না থাকে। আমরা আইসিটি এবং কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিয়েছি। আমরা প্রযুক্তিনির্ভর জাতি গড়ে তুলতে চাই। এ জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস, কর্মমুখী শিক্ষা ও আইটি শিক্ষার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এ কারণে আজ অনেকেই আউটসোর্সিং করে অনেক টাকা রোজগার করছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৯৬ সালের একটি মোবাইলের দাম ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বিএনপির একজন নেতা এই মোবাইল কোম্পানির মালিক ছিলেন। তখন একটি কল ধরলেও ১০ টাকা একটি কল করলেও ১০ টাকা মিনিট খরচ হতো। এখন আমাদের হাতে হাতে মোবাইল। আমাদের তরুণরা মোবাইলের মাধ্যমে শিক্ষাগ্রহণ করছে। আজ প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি।’

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহীতে নির্মিত ‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’, এর ওপর একটি ভিডিওচিত্র পরিবেশন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এ এন এম জিয়াউল আলম। বিদ্যুৎ বিভাগের ওপর উপস্থাপনা এবং ভিডিওচিত্র পদর্শন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. সুলতান আহমেদ।

উদ্বোধন করা প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক, রাজশাহীতে নির্মিত ‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার’, শতভাগ বিদ্যুতায়িত ৭টি জেলা, ১টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র এবং ১৮টি জেলার ২৩টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *