দেশের কঠিন বিপর্যয়ে ক্ষুদ্র সাহায্যের চেষ্টা: পপি

করোনা ভাইরাস আতঙ্ক এখন বিশ্বজুড়ে। এরই মধ্যে বাংলাদেশে এ ভাইরাসে আক্রান্ত বেশ কয়েক জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। জনসমাগমস্থল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছে সরকার। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। করোনা মোকাবেলায় ইতোমধ্যে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অফিস-আদালত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। করোনার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের শোবিজ অঙ্গনেও। ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে সব ধরণের শুটিং। পাশাপাশি তারকারাও করোনা নিয়ে নানান ধরনের সচেতনা মূলক পোস্ট দিচ্ছেন তাদের ফেসবুকে। পরামর্শ দিচ্ছেন বাসায় থাকতে ও নিয়ম মেনে চলতে। পিছিয়ে নেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত চিত্র-নায়িকা পপিও।

পপি বর্তমানে অবস্থান করছেন নিজের গ্রামের বাড়ি খুলনাতে। পপি নিজেও মাস্ক পরে রয়েছেন। সেই সঙ্গে রাস্তায় নেমে তিনি মানুষকে মাস্ক পরিয়ে, স্যানিটাইজার ব্যবহার শিখিয়ে সচেতন করলেন। দেশের এই কঠিন সময় নিজ জন্মস্থান খুলনা সিটিতে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি কোরআন খতম সহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করছেন।

এ প্রসঙ্গে চিত্র-নায়িকা পপি বলেন, দেশ ও জাতির কঠিন বিপর্যয়ে সময় কিছু মানুষকে সচেতন করা ও শ্রমজীবী মানুষদের ক্ষুদ্র সাহায্যের চেষ্টা। এবং বাংলাদেশ সহ সারা পৃথিবীকে এই মহামারী থেকে রক্ষা করার জন্য কোরআন খতম ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন। যতটুকু সম্ভব আমার জায়গা থেকে আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি। নিজে সর্তক থেকে সাধারণ মানুষদের করোনা নিয়ে সচেতন করছি। কারণ আমরা সব সময় নিউজ, ফেসবুকের মাধ্যমে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে জানতে পারছি। কিন্তু গ্রামের মানুষ করোনাভাইরাস নাম জানলেও এর থেকে মুক্তি কিংবা এর ভয়াবহতা জানে না৷ তাই আমি তাদের সাথে করোনা প্রসঙ্গে কথা বলছি ও সচেতন করার চেষ্টা করছি। এই ক্ষুদ্র চেষ্টা চলমান থাকবে ইনশাআল্লাহ। সবাই নামাজ পরে সবার জন্য দোয়া করি। আমাদের সকলকে আল্লাহ হেফাজত করুক।

এদিকে পপি তার এলাকায় মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিম খানায় করোনা থেকে মুক্তির জন্য দিয়েছেন কোরআন খতম। পাশাপাশি বিনামূল্যে বিতরণ করছেন মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান। তবে এই মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান ব্যবস্থা করতেও বেশ বিপাকে পড়তে হয়েছে এই নায়িকাকে। কেননা চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, সাবান তেমন ভাবে পাওয়া যাচ্ছে না গ্রাম গুলোতে৷ আর তাই পরবর্তীতে ঢাকা থেকে সব কিছু ব্যবস্থা করে সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরণ করেন তিনি।

দেশের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পপি বলেন, ‘চলমান ভয়াবহ সংকটকালীন আমরা যারা আর্থিকভাবে সচ্ছল তারা হয়তো বাসায় বসেই সময় অতিক্রম করতে পারব কিংবা কঠিন মোকাবেলা করতে পারব; কিন্তু যারা দিনমজুর কিংবা অসহায় তাদের তো সেই আর্থিক সুযোগ নেই। হ্যান্ড স্যানিটাইজার তো দূরের কথা তিনবেলা খাবার সংগ্রহ করাই তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হবে। তাই সমাজের বিত্তশালী কিংবা সামর্থ্যবান মানুষদের প্রতি আমার আহ্বান, আপনারা এ অসহায় ও বিত্তহীন মানুষদের জন্য কিছু করুন। করোনার সংকট যদি আরও বৃদ্ধি পায় তাহলে অনগ্রসর এ মানুষগুলোই বেশি সমস্যার মুখোমুখি হবে। তাই দেরি না করে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত, খানিকটা আতঙ্কিত। এই মূহুর্তে আমাদের যেটা করা উচিত সেটা হচ্ছে, আমাদের এখন বাসায় থাকা উচিত। খুব জরুরি প্রয়োজন না হলে বাইরে বের হওয়া উচিত না। আর যদি হতেই হয় তাহলে যেন মাস্ক পড়ি আর সচেতন থাকি। আমরা আতঙ্কিত না হয়ে এই কিছুদিন বাসায় থাকি সবাই। আর যারা স্বাস্থ্যসেবী আছেন তাদের কাজে কোন রকম ব্যাঘাত না ঘটাই! অকারণে হাসপাতালে ভীড় না জমাই।’

পপি বলেন, ‘সারা পৃথিবীতেই যে যার যার অবস্থান থেকে এই সমস্যা মোকাবিলা করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমারা যারা মিডিয়াতে কাজ করি তাদেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে। অনেকে সেই দায়িত্বের জায়গা থেকে অনেক কিছু করছে। সবাইকে বলবো, দয়া করে সবাই বাসায় থাকুন। কেউ বাসা থেকে বের হবেন না। নিজে সচেতন থাকুন, অন্য সবাইকেও সচেতন থাকতে বলুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *