ঢাকা ছাড়লেন ২৬৯ মার্কিন নাগরিক

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে তিন সপ্তাহের মাথায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আড়াইশো’র বেশী নাগরিক ঢাকা ছেড়ে গেছেন।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ বিমানে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যান ওই মার্কিন নাগরিকরা। বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বলে কর্মকর্তাদের কাছ থেকে জানা গেছে।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় ওই বিশেষ ফ্লাইটটিতে ২৬৯ জন আমেরিকান নাগরিককে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয় এবং এদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকায় বিদেশি মিশনে কর্মরত জনবল, কূটনীতিক, দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং তাদের পরিবারের সদস্য।

ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন তৌহিদ উল আহসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবারে মালয়েশিয়া থেকে আসা একটি বিমানে ২২৫ জন মালয়েশিয়ান নাগরিক এবং ভুটানের ব্যবস্থাপনায় সে দেশের ১৩৯ জন নাগরিক নিজ দেশে ফিরে যান।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত এবং ভাইরাসে মানুষের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ার নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশে থাকা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করে।

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ার পর এখন করোনাভাইরাসের কারণে ঢাকার সঙ্গে চীন ছাড়া বাকি বিশ্বের বিমান যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

ইউরোপে করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৪ই মার্চ ব্রিটেন বাদে ইউরোপের সব দেশ থেকে আসা ফ্লাইট অবতরণ বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার।

এরপর ২১শে মার্চ মধ্যরাত থেকে বিদেশ থেকে ফ্লাইট আসার ব্যাপারে আরও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের দেশে ফিরতে অসুবিধায় পড়েন বিদেশি নাগরিকেরা।

এসব বিদেশি নাগরিকেরা বাংলাদেশ ছেড়ে যেতে চাইলে তাদের চার্টার ফ্লাইট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে বলে তখন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খলিলুর রহমান জানান, কোনও দেশ তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে চাইলে বাংলাদেশ পূর্ণ সহায়তা করবে।

ওইসব দেশ যদি নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বিশেষ উড়োজাহাজের ব্যবস্থা করেন অথবা বাংলাদেশ বিমানের কোনও প্লেন চার্টার করতে চান, তাহলে সেটার অনুমোদন দেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন। সূত্র: বিবিসি বাংলা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *