ছয় দেশ ফেরতদের যেতে হবে কোয়ারেন্টাইনে

ছয়টি দেশের নাগরিকদের ‘আইসোলেশনে’ যেতে হবে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শাহরিয়ার সাজ্জাদ। তিনি বলেন, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালি, ইরান, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ড ফেরতদের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।  

আজ রোববার ইতালি ফেরত একজন নারী ও দুই জন পুরুষের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শাহারিয়ার সাজ্জাদ বিকেলে বলেন, বিমান বন্দরে ওই ছয়টি দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বিমানবন্দরে থার্মাল স্ক্যানারে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যদি করোনার লক্ষণ পাওয়া যায় তাহলে তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। আর যদি এমন কোনো লক্ষণ ধরা না পড়ে, তাহলে আমরা অনুরোধ জানাব- যাত্রীরা যেন হোম কোয়ারেন্টাইন অথবা সেলফ কোয়ারেন্টাইনে ১৪ দিন থাকেন।

বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্তের খবর দিয়ে রোববার সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান-আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, আক্রান্ত তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষ, একজন নারী; তিনজনই বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে দুজন ইতালির দুটি শহর থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। এদের মধ্যে একজনের সংস্পর্শে আসায় পরিবারের আরেক সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

তিনি বলেন, তাদের সবার অবস্থাই স্থিতিশীল। তিনজনকেই হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

করোনা ভাইরাস মূলত শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। এর লক্ষণ শুরু হয় জ্বর দিয়ে, সঙ্গে থাকতে পারে সর্দি, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা ও শরীর ব্যথা। সপ্তাহখানেকের মধ্যে দেখা দিতে পারে শ্বাসকষ্ট। উপসর্গগুলো হয় অনেকটা নিউমোনিয়ার মত।

করোনায় আক্রান্ত হলে যাদের শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো কিছুদিন পর এমনিতেই তা সেরে যেতে পারে। তবে ডায়াবেটিস, কিডনি, হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের পুরোনো রোগীদের ক্ষেত্রে ডেকে আনতে পারে মৃত্যু। এর টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো আবিষ্কার হয়নি। তাই যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। আর ঘন ঘন হাত ধোয়া বা পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *