চীনের স্বপ্নের সঙ্গে ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন যুক্ত করতে চান: চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আজ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের “সোনার বাংলা”র সাথে ‘চীনের স্বপ্ন’ যুক্ত করার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন। তিনি জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ উদযাপন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষ্যে এক ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন।

ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, মহা চীনের নতুন স্বপ্নের সাথে ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন ভালভাবে সংযুক্ত হতে পারে, কারণ উভয় দেশই এখন উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহাম্মদ সোলিহর উপস্থিতিতে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে জমকালো অনুষ্ঠান চলাকালে এই ভিডিও বার্তাটি প্রদর্শন করা হয়।

জিনপিং বলেন, ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠা করার জন্য বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতার স্বপ্ন এখনও জাতীয় পুনরুজ্জীবনের পথে দেশের ১৬ কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।

চীনা প্রেসিডেন্ট এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব এবং কারও প্রতি বৈরীতা নয়’ নীতির প্রশংসা করে উল্লেখ করেন, এই নীতিটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ৫০ বছর আগে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জিনপিং বঙ্গবন্ধুকে মহান ব্যক্তি হিসাবে বর্ণনা করেছেন, যিনি তাঁর পুরো জীবন তাঁর দেশ ও জনগণের জন্য উৎসর্গ করে গেছেন।

জিনপিং আরো বলেন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পিতা চীনা জনগণের পুরানো ও ভালো বন্ধু ছিলেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে চীনে তাঁর দুবার সফরকালে চেয়ারম্যান মাও সেতুং ও প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই এবং পুরনো প্রজন্মের অন্যান্য চীনা নেতাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সর্বদা স্মরণে রাখতে হবে, প্রবীণ প্রজন্মের নেতারা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিকাশের জন্য কী করেছিলেন, এবং চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ধারা ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’

জিনপিং বলেন, প্রাচীন সিল্ক রোড সহস্রাব্দ জুড়ে বিস্তৃত বন্ধুত্বের সাক্ষী হিসাবে রয়ে গেছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ সফরের সময় তিনি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারিতে উন্নীত করেছেন।

চীনের প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ হচ্ছে প্রথম দক্ষিণ এশীয় দেশ, যা চীনের সাথে বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা সম্পর্কিত একটি আন্তঃসরকার দলিল স্বাক্ষর করেছে। এই ‘বাস্তব সহযোগিতা উভয় দেশের জনগণকে সত্যিকারের সুবিধা দিয়েছে’।

চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সাথে চীনের সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সহযোগিতার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান।

জিনপিং বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সংস্কার ও উন্নয়নের দিকে মনোনিবেশ করেছে এবং ‘উন্নয়নের দ্রুত গতির পথে’ প্রবেশ করেছে। বন্ধুত্বপ্রতীম প্রতিবেশী হিসাবে চীন বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে আনন্দিত।

তিনি আরও বলেন, ‘চীন ও বাংলাদেশ ৪৬ বছর আগে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে আমাদের দুই পক্ষ একে অপরের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমান আচরণ করেছে। দুটি দেশ একে অপরকে সমর্থন করেছে এবং একসাথে অগ্রগতি অর্জন করেছে।

তিনি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে কোভিড-১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে চীনকে প্রচুর পরিমাণে চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ আঘাত হানার পর থেকে এই দেশ কঠিন সময়ে একসাথে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *