গাজর যেভাবে মিষ্টির বিকল্প!

চিনি, শর্করা, সুগার- যে নামেই ডাকুন, গত কয়েক দশকে বিজ্ঞানী আর ডাক্তারদের ক্রমাগত সতর্কবার্তার ফলে এটা হয়ে দাঁড়িয়েছে জনস্বাস্থ্যের এক নম্বর শত্রু। উন্নত স্কুল আর হাসপাতালগুলো খাদ্যতালিকা থেকে একে বাদ দিয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবার থেকে চিনি সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে দিতে।

আমরা জানি, যারা বেশি মিষ্টি খায় তাদের টাইপ-টু ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে শরীরে দেখা দিতে পারে নানা রকম বিষক্রিয়া। এছাড়াও সব ধরনের বিপাকজনিত রোগ, যেমন উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের আধিক্য, ফ্যাটি লিভার, ডায়াবেটিস, মেদস্থূলতা ও বার্ধক্য প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ার সঙ্গে চিনির সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পেয়েছেন তারা। এসব কারণেই বিশ্বজুড়ে এখন চিনির আরেক নাম ‘হোয়াইট পয়জন’।

অন্যদিকে, বাইরের দোকানের মিষ্টি আরও ক্ষতিকর। তবে যারা মিষ্টি জাতীয় খাবার পছন্দ করেন তারা চিনি ছাড়াও স্বাস্থ্য সম্মত মিষ্টি তৈরী করে খেতে পারেন। তাদের জন্য আজ থাকছে গাজরের হালুয়া।

বর্তমানে বাজারে গাজর এমনটিতেই বেশ সহজলভ্য একটি সবজি। পুষ্টিগুণের বিচারে এটা বেশ স্বাস্থ্যসম্মতও বটে। গাজরের হালুয়ার স্বাদই আলাদা। যে একবার খাবে তার মুখে লেগে থাকবে। তাছাড়া গাজরে রয়েছে ভিটামিন ‘এ’ যা আমাদের চোখের জন্যও উপকারী।

গাজর দিয়ে হালুয়া যেভাবে বানাবেন

উপকরণ
গাজর পরিমাণ মতো অথবা ১ কেজি
ঘি পরিমাণ মতো
গরুর তরল দুধ ১ কেজি
নারিকেল কোরা ১ কাপ
চিনির পরিবর্তে খেজুরের গুড়/ লাল চিনি পরিমাণ মতো
তেজপাতা ২/৩টা
এলাচি ৩/৪টা
দারচিনী
পেস্তা বাদাম/কাজু বাদাম/চীনা বাদাম

প্রণালী
প্রথমে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। তারপর ধোয়া গাজরগুলো ভালো করে সিদ্ধ করে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর প্যানে ঘি দিয়ে গাজর গুলোকে ৭/৮ মিনিট ভাজুন। তারপর দুধ ও গুড় দিয়ে দিয়ে ১৫/২০ মিনিটের মতো রান্না করুন।

দুধ শুকিয়ে গাজর নরম হয়ে এলে নারিকেল কোরা, বাদাম, মসলা দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে আরও প্রায় ৮/১০ মিনিট হালকা আঁচে রান্না করুন। হালুয়া শুকিয়ে ঘন আর আঠালো হয়ে গেলে নামিয়ে একটু ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *