ওয়েব সিরিজের নামে নাটকের বাজারে শুরু হয়েছে সেমি-পর্নোমুভি

গ্রামীণফোন ও রবিকে চিঠি দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়

ওয়েব সিরিজ নিয়ে একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনঃ

  লেখকঃ শাহিন আহমেদ, নাট্য পরিচালক।

বাংলাদেশি সিনেমা শেষ! যুুক্তি তর্ক অনেক রয়েছে বাজারে। কেউ অশ্লীলতার যুগকে দুষছেন, কেউ ভারতীয় মুভির প্রবেশকে দুষছেন। সে যাই হোক আমাদের দেশের একটা শিল্প ধ্বংস হয়ে গেছে সবাই এটা তো স্বীকার করেন। তা না হলে, আবার আমাদের অমুক মুভির মাধ্যমে সিনেমা ঘুরে দাঁড়াবে, মহরতে এমন প্রত্যাশামূলক বক্তব্য দেয়া হতো না। সেই তর্ক এখানে ক্ষ্যান্ত করি। চলুন গরম কোন টপিকে। তার আগে এক লাইন হলেও বলতে হয়।

সিনেমার আগে গ্রামেগঞ্জে ছড়িয়ে পড়া সামাজিক যাত্রাপালায় একটি গোষ্ঠী নিদারুনভাবে অশ্লীলতাকে ঢুকিয়ে এমন অবস্থা করল, আমি যখন বড় হই তখন যে ক’টা যাত্রাই দেখেছি বেশিরভাগই ছিল অশ্লীল। তারমানে যাত্রা শিল্পকে আমার বেড়ে উঠার সাথে সাথেই ধ্বংস করা হয়েছে। সেটা তো সেকেলে (পুরানো) মাধ্যম। আমার সাথে সাথে সবাই ভুলেও গেছে। এখন যাত্রা আর হয়না।

কিছু মঞ্চ দর্শকহীন হলেও মঞ্চের যাদুকরদের কারণে এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। কঠোর হস্তে এখনো শাগরেদদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয় নাট্যদলগুলোতে। বাঘা বাঘা অনেক শিল্পীও জন্ম নিয়েছে এই মঞ্চ থেকে। তারাই এখনো সেটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। হয়তো সে কারনে মঞ্চে এখনো অভিযোগের কালিমা লিপ্ত হয়নি। সেটা না হলেও কর্মাশিয়াল গতি বা যৌবন মঞ্চে এখন আর নেই। তবুও ইজ্বত নিয়েই মঞ্চ দাঁড়িয়ে আছে।

বাংলাদেশের নাটকের কদর শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিদেশে তথা ভারতেও রয়েছে। ইউটিউবের কারণে বিশ্বব্যাপি চলছে বাংলা নাটক। স্ব-গৌরবে বাংলা নাটক কিছুটা তার যৌবন ধরে রাখছে। পুরো শিল্পী জগত এখন নাটকের বাজার নির্ভর। তাই অনেক সিনেরমার শিল্পীও নাটকে নিয়মিত হচ্ছেন। কিন্তু সময় এসেছে এ বাজারটাকেও ধ্বংস করার। অনেক রকম অভিযোগ টিভি নাটকের বক্সে জমা পড়েছে। নাটকের যৌবন শেষ হয়ে যায়নি। কিন্তু খুব বেশি বাকিও নেই। কিছু লক্ষণ এই শিল্পেও পড়ছে। বড় রকম একটি লক্ষণ হলো, শিল্পে অশিল্পীর আগমন। বুঝতে কষ্ট হলে বলব, কুশিল্পীর আগমন। এভাবে আরো অনেক লিখতে পারতাম। সোজা প্রসঙ্গে যেতে চাই।

ফেসবুকের পাতা উল্টাতেই সামনে আসল একটি লাইভ ভিডিও। কবির তিথি নামে একজন মডেল বলছিলেন, “আমি সচরাচর কারো বিষয়ে নেগেটিভ প্রচার চাই না। কিন্তু আজকে বাধ্য হলাম। যারা ওয়েব সিরিজ বানাচ্ছেন আপনাদের কি কাজ নেই? আন্ডার এইটিন (18) নামে একটি ওয়েব সিরিজ নাটক বাজার নামে একটি হাউজ থেকে বানানো হয়েছে। কেন? আপনারা কি টাকার জন্য ভুলে গেছেন কোন দেশে বাস করেন? এটা কি আমেরিকা-লন্ডন? আমি অবাক এটা বাংলাদেশের ওয়েব সিরিজ! আমাদের বাংলাদেশের শিল্পীরা এটা করেছে!

তিনি আরো বলেন, এটা ওয়ের্স্টান কান্ট্রি না। প্লিজ স্টপ করেন এসব। আমরা সবাই মিলে প্রতিবাদ করবো। আমার ফ্যামেলির সবার সামনে যখন এটা ওপেন হয়েছে। ওমাই গড…। এই জন্যই বাংলাদেশের মিডিয়াকে নিয়ে এত বাজে কথা বলে মানুষ। মানুষ মিডিয়ার মেয়েদের নিয়ে বাজে কথা বলে একদিকে ঠিকি আছে। বন্ধ করেন এসব। আল্লাহ বাচাইছে মিডিয়া ছেড়ে দিছি।“

সেই পোস্ট শেয়ার করলেন চিত্র নায়িকা তানিন সুবাহ। তখনি এটা ছাড়াইতে শুরু করে। পরে এফএম নিউজের পক্ষ থেকে মডেল কবির তিথির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি পুলিশের কাছে কম্প্লেইন করেছি। আমি এটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।

সব চেয়ে মজার ব্যাপার হলো এরকম একটি অশ্লীল ভিডিওতে অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় টিভি অভিনেতা শ্যামল মাওলা, মৌটুসী, মডেল ইমি, ও আরো কয়েকজন নতুন মূখ। সন্দেহজনকভাবে জানা গেছে, এই নাটকের নির্মাতা ওয়াহিদ তারেক।

মূলত কি ছিল সেই ওয়েব সিরিজে?

নাটক বাজার পরিবেশিত সেই ওয়েব সিরিজের নাম আ্ন্ডার 18, কিন্তু নাটকের কোথাও পরিচালকের নাম ও অভিনয় শিল্পীর নাম দেখানো হয়নি। শুধু দেখানো হয়েছে পর্নোমুভির কিছু সিক্যুয়েন্স সাথে বাংলা নাটকের কিছু সিক্যুয়েন্স মিক্সড। যেটা বাংলার কোন ঐতিহ্য বা সংস্কৃতির মধ্যেই পড়ে না। পর্নোমুভির সিক্যুয়েন্সগুলোর বর্ণনা দেয়ার কি আছে? সেই সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে আমিও কি আরেকটি নোংরামো উপস্থাপন করবো? এক শব্দেই বুঝা যায়। আমরা নাটক থেকে সোজা পর্নো মুভিতে পর্দাপন করতে যাচ্ছি। নাটকের হাত ধরে এই দেশেও চালু হচ্ছে পর্নোমুভির ইন্ডাস্ট্রী।

ব্যাখ্যা দীর্ঘায়িত না করে সহজেই বলে ফেলি, এই প্রতিবেদন তৈরি করার উদ্দেশ্য নাটক শিল্পকে অন্তত আমরা বাঁচিয়ে রাখতে চাই। আমি একজন নাট্যকার বলেই এভাবে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছি। সংবাদ নয় শুধু ,প্রতিবাদ লিপি আকারেও। প্রতিবাদ করার কি আছে? আমাদের প্রসাশন খবর পেলেই এর নেপথ্যে যারা আছে সবাইকে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দিবেন। এই বিশ্বাস সরকারের প্রতি আমার রয়েছে। কারণ এই সরকারই বাংলা সিনেমাকে অশ্লীলতা মুক্ত করেছে। সরকারের কাছে সকল শিল্পী ও সাংবাদিকদের পক্ষ হতে আবেদন, শিল্পীদের জন্য, সংস্কৃতিকে জীবিত রাখার জন্য অন্তত নাটক শিল্পকে বাঁচান। নাটক আমাদের বাস্তব জিবনের গল্প। নাটক আমাদের পারিবারিক মজলিশ। নাটক আমাদের শেষ খোরাক। জড়িতদের বিরুদ্ধে ধ্রুত দৃষ্টান্ত মূলক আইনগত ব্যবস্থা চাই। আশা করব সকল শিল্পী ও সাংবাদিকগণ এ বিষয়ে প্রতিবাদে অংশ নিবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *