আন্তর্জাতিক উৎসবের অপেক্ষায় অমিতাভ রেজা ‘রিকশা গার্ল’

জনপ্রিয় নির্মাতা অমিতাভ রেজা তার প্রথম ছবি ‘আয়নাবাজি’ দিয়ে খেল দেখিয়েছেন। ২০১৬ সালে মুক্তির পর ভালোই সাড়া ফেলে ছবিটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেখা যায় আয়নাবাজি’র দাপট। সম্মাননা, প্রশংসা সবকিছুই ধরা দেয় ‘আয়নাবাজি’তে। নির্মাতা অমিতাভের দ্বিতীয় ছবি ‘রিকশা গার্ল’ রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায়। গত এপ্রিলে এ ছবির শুটিং শুরু হয়ে কয়েক ধাপে শেষ হয়। এবার মুক্তির অপেক্ষা। গত আগস্টে ফার্স্টলুক প্রকাশের পর জানানো হয়েছিল, চলতি মার্চেই ‘রিকশা গার্ল’র মুক্তি মিলবে।

মঙ্গলবার দুপুরে কথা হয় অমিতাভ রেজার সঙ্গে। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, ‘রিকশা গার্ল’ মুক্তির জন্য প্রস্তুত। তবে এখনও সেন্সর করা হয়নি। ছবির যে বিষয়বস্তু সেটা বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে বারবার পর্যবেক্ষণ করছি। সেন্সরে জমা দিলে একবারেই যেন নো অবজেকশন আসে। অমিতাভ রেজা বলেন, ইন্টারন্যাশনালি মুক্তি দেওয়ার জন্য বিভিন্ন দেশের ফেস্টিভ্যালের অপেক্ষা করছি। ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শনের পরে দেশে মুক্তি দেব। বাংলাদেশে কবে মুক্তি এ বিষয়টি চূড়ান্ত নয়।

‘রিকশা গার্ল’ ছবির গল্পের ভাবনা প্রসঙ্গে জানা গেছে, রিকশাচালক বাবার বড় মেয়ে দুরন্ত কিশোরী নাইমা। মফস্বলে বেড়ে ওঠা স্বাধীনচেতা নাইমার জীবন তার রংতুলির মতোই বর্ণিল। নাইমা আলপনা এঁকে যা উপার্জন করে, তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। অভাবের ভেতর দিয়ে চলতে থাকা পরিবারের দুর্দশা শেষ হয় না এই আয়ে। তবে জীবনের হরেক রকমের রং মিলেমিশে নাইমার তুলির আঁচড়ে আঁকা হয় সুন্দর সুন্দর সব আলপনা। একদিন চোখভরা স্বপ্ন নিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে সে।

নাইমার জীবনে আসে নতুন সব বাঁক। বাঁকে বাঁকে নতুন নতুন অভিজ্ঞতাকে সঙ্গে নিয়ে সাহসী পথচলা শুরু হয় এক রিকশা–কন্যার। নির্মাতা অমিতাভ রেজা বলেন, “রিকশা গার্ল” এমনভাবে নির্মাণের চেষ্টা করেছি, যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ কাজটি বাংলাদেশের নামকে উজ্জ্বল করতে পারে। “রিকশা গার্ল” ছবির পোস্টারে স্বাধীনচেতা এক নির্ভীক দুরন্ত মেয়ের মুখায়ব দেখিয়েছি। পুরো ছবিতে এমন একটি চরিত্রের অজানা পথে সাহসী পথচলার গল্প থাকবে। যেটি নারীর ক্ষমতায়নের পক্ষে।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের লেখিকা মিতালি পারকিনসের কিশোর সাহিত্য ‘রিকশা গার্ল’ বইটি ২০০৭ সালে নিউইয়র্কে সর্বাধিক বিক্রি হয়েছিল। অমিতাভের এ ছবিটি এই উপন্যাসের ছায়া অবলম্বনে চিত্রনাট্য লিখছেন শর্বরী জোহরা আহমেদ। প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সিরিজ ‘কোয়ান্টিকো’র চিত্রনাট্যকারদের একজন তিনি। ছবিটি প্রযোজনা করবেন মার্কিন প্রযোজক এরিক জে অ্যাডামস। যৌথভাবে নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন ফরিদুর রেজা সাগর ও জিয়াউদ্দিন আদিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *